কভিড-১৯ মহামারি ঘোষণার পর থেকেই দরপতনের মাত্রা আরো বেড়েছে বিশ্ব পুঁজিবাজারে। এ মাত্রা এবার ভেঙ্গেছে অতীতের সব রেকর্ডও। গতকাল প্রায় ১০ ভাগ কমেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তিনটি সূচক। যা গত ৩৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পতন। আর এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবারও দরপতন এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সব পুঁজিবাজারে।
চলমান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংকট, কোভিড নাইনটিন মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশই নিচ্ছে কঠোর পদক্ষেপ। দেয়া হচ্ছে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং বন্ধ হচ্ছে বহু দেশের সীমান্তও। আর সংক্রমণ ঠেকাতে ইটালির মতো দেশকেও করা হয়েছে অবরুদ্ধ।
এই ভাইরাসের প্রভাবে অর্থনৈতিক মন্দা ঠেকাতে বিভিন্ন পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ নিচ্ছে সব দেশসহ দাতা সংস্থারা। কিন্তু এতে সন্তুষ্ট হতে পারছেননা বিনিয়োগকারীরা। যার প্রভাবে একের পর এক বড় দরপতন বিশ্ব পুঁজিবাজারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপের ২৬ দেশে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পরই শুরু হয় বিপত্তি। গত বৃহস্পতিবার আবারোও ধস যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে। এ সময়ে মার্কিন এস এন্ড পি সূচক ৫০০ সূচক কমে সাড়ে নয় ভাগ। ১৯৮৭ সালের অক্টোবরের পর একদিনের সবচেয়ে বড় পতন এটি। এছাড়াও ১৬ কার্যদিবসে সূচকটি হারিয়েছে ২৭ শতাংশ।
পাশাপাশি ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমেছে ৯ দশমিক নয় নয় ভাগ। যা কিনা ৩৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হ্রাস। দরপতনে মার্কিন নাসডাক সূচকও কমেছে প্রায় সাড়ে ৯ ভাগ। আর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার পরই যুক্তরাষ্ট্রে মূলত সবচেয়ে বেশি ধস নামে বিমান সংস্থা ও জালানি তেলের শেয়ারের দামে। কমেছে মার্কিন বন্ডের দাম ও ইউরোর সাথে ডলারের বিনিময় হার।
দরপতনের তালিকায় পিছিয়ে নেই ইউরোজোনের পুঁজিবাজারও। যুক্তরাষ্ট্রের ধারবাহিকতায় লন্ডনের এফটিএসই হান্ড্রেড সূচক কমেছে প্রায় ১১ শতাংশ। এক কার্যদিবসেই ১৬ হাজার ৪০ কোটি পাউন্ড হারিয়েছে দেশটির পুঁজিবাজার। একে ৩ দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা বলছেন বিশ্লেষকরা। আর ফ্রান্স ও জার্মানির পুঁজিবাজারেও সূচক কমেছে ১২ শতাংশের বেশি।
শুক্রবার ধস নামে এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের পুঁজিবাজারে। লেনদেনের শুরু থেকে নেতিবাচক অবস্থানে চীন, হংকং, তাইওয়ান, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার বাজার। এ সময় জাপানের নিক্কেই কমে সাড়ে ৮ ভাগ, হ্যাংস্যাং ৫ দশমিক ২, সাংহাই কম্পোজিট ৩ এবং অস্ট্রেলিয়ার সূচক হারায় ৮ ভাগ।
এদিকে, বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা ও পুঁজিবাজারে চলমান ধস ঠেকাতে এরই মধ্যে সুদ হার কমিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যসহ বেশ কিছু দেশ। সহজ শর্তে ঋণের দিতে দেড় ট্রিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠন করেছে ফেডের নিউইয়র্ক শাখা।
No comments:
Post a Comment